ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

পরিবারকে যে কারণে সময় দেওয়া জরুরি

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেট সময় : ১১:২০:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৩২ জন পড়েছেন

মানুষ পৃথিবীতে একা আসে কিন্তু বেড়ে ওঠে পরিবারকে ঘিরে। এই পরিবারই সমাজের মূল ভিত্তি ও শান্তির ঠিকানা। জীবনের প্রথম হাসি, প্রথম কান্না, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর সূচনা পরিবার থেকেই। ব্যস্ততা, প্রতিযোগিতা আর অস্থিরতায় ভরা এই দুনিয়ায় পরিবারই মানুষের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। যেখানে ভালোবাসা নিঃস্বার্থ, যত্ন নির্ভেজাল এবং সম্পর্কগুলো হৃদয়ের গভীর থেকে গড়ে ওঠে। তাই ইসলাম পরিবারকে শুধু সামাজিক কাঠামো নয়, বরং ইমান গঠনের প্রথম বিদ্যালয় হিসেবে দেখেছে।

কুরআনের আলোকে পরিবার

পরিবার কেবল একসঙ্গে বসবাস নয়; বরং তা ভালোবাসা, দয়া ও মানসিক প্রশান্তির এক পবিত্র বন্ধন। আল্লাহ তাআলা পরিবারকে ভালোবাসা ও শান্তির কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন—

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً

‘তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে— তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও; আর তিনি তোমাদের মাঝে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।’ (সুরা আর-রূম: আয়াত ২১)

পরিবারেই গড়ে ওঠে মূল্যবোধ

পরিবারকে দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিকতায় গড়ে তোলা ইমানের অপরিহার্য দায়িত্ব। শিশু প্রথম যে শিক্ষাটি পায়, তা পরিবার থেকেই। বাবা-মায়ের আচার-আচরণ, কথা ও চরিত্রই সন্তানের জীবনের নকশা তৈরি করে। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا

‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারকে আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা আত-তাহরিম: ৬)

হাদিসের আলোকে পরিবারের মর্যাদা

ইবাদত, দান বা বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি পরিবারের প্রতি উত্তম আচরণই প্রকৃত তাকওয়ার পরিচয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي

‘তোমাদের মধ্যে উত্তম সে ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।’ (আত-তিরমিজি ৩৮৯৫)

পরিবার ও নিরাপত্তার অনুভূতি

পরিবার হলো সেই জায়গা, যেখানে মানুষ ভেঙে পড়লেও আশ্রয় পায়, ভুল করলেও ক্ষমা পায়। তাই ইসলামে বাবা-মায়ের সম্মান, সন্তানদের যত্ন এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নির্দেশিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ وَيُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ

‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক বাড়ুক এবং তার আয়ু দীর্ঘ হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বুখারি ৫৫৬০, মুসলিম ৬২৯৩)

পরিবারই সমাজের মূল ভিত্তি— এ কথা শুধু সামাজিক বাস্তবতা নয়, বরং কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত এক অনস্বীকার্য সত্য। একটি সুস্থ পরিবার গড়ে উঠলে গড়ে ওঠে একটি সুস্থ সমাজ, আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় আল্লাহভীরু ও মানবিক প্রজন্ম।

আজ প্রয়োজন পরিবারকে সময় দেওয়া, ভালোবাসা দেওয়া, দ্বীনি শিক্ষায় আলোকিত করা। কারণ পরিবার ভেঙে গেলে সমাজ ভেঙে পড়ে, আর পরিবার শক্ত হলে উম্মাহও শক্ত হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের পরিবারগুলোকে ভালোবাসা, রহমত ও ইমানের আলোয় ভরিয়ে দিন। আমিন।

ট্যাগ :

সংবাদটি সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিবারকে যে কারণে সময় দেওয়া জরুরি

আপডেট সময় : ১১:২০:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

মানুষ পৃথিবীতে একা আসে কিন্তু বেড়ে ওঠে পরিবারকে ঘিরে। এই পরিবারই সমাজের মূল ভিত্তি ও শান্তির ঠিকানা। জীবনের প্রথম হাসি, প্রথম কান্না, প্রথম শিক্ষা—সবকিছুর সূচনা পরিবার থেকেই। ব্যস্ততা, প্রতিযোগিতা আর অস্থিরতায় ভরা এই দুনিয়ায় পরিবারই মানুষের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। যেখানে ভালোবাসা নিঃস্বার্থ, যত্ন নির্ভেজাল এবং সম্পর্কগুলো হৃদয়ের গভীর থেকে গড়ে ওঠে। তাই ইসলাম পরিবারকে শুধু সামাজিক কাঠামো নয়, বরং ইমান গঠনের প্রথম বিদ্যালয় হিসেবে দেখেছে।

কুরআনের আলোকে পরিবার

পরিবার কেবল একসঙ্গে বসবাস নয়; বরং তা ভালোবাসা, দয়া ও মানসিক প্রশান্তির এক পবিত্র বন্ধন। আল্লাহ তাআলা পরিবারকে ভালোবাসা ও শান্তির কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন—

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً

‘তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে— তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও; আর তিনি তোমাদের মাঝে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।’ (সুরা আর-রূম: আয়াত ২১)

পরিবারেই গড়ে ওঠে মূল্যবোধ

পরিবারকে দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিকতায় গড়ে তোলা ইমানের অপরিহার্য দায়িত্ব। শিশু প্রথম যে শিক্ষাটি পায়, তা পরিবার থেকেই। বাবা-মায়ের আচার-আচরণ, কথা ও চরিত্রই সন্তানের জীবনের নকশা তৈরি করে। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا

‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারকে আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা আত-তাহরিম: ৬)

হাদিসের আলোকে পরিবারের মর্যাদা

ইবাদত, দান বা বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি পরিবারের প্রতি উত্তম আচরণই প্রকৃত তাকওয়ার পরিচয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي

‘তোমাদের মধ্যে উত্তম সে ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।’ (আত-তিরমিজি ৩৮৯৫)

পরিবার ও নিরাপত্তার অনুভূতি

পরিবার হলো সেই জায়গা, যেখানে মানুষ ভেঙে পড়লেও আশ্রয় পায়, ভুল করলেও ক্ষমা পায়। তাই ইসলামে বাবা-মায়ের সম্মান, সন্তানদের যত্ন এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নির্দেশিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ وَيُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ

‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক বাড়ুক এবং তার আয়ু দীর্ঘ হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বুখারি ৫৫৬০, মুসলিম ৬২৯৩)

পরিবারই সমাজের মূল ভিত্তি— এ কথা শুধু সামাজিক বাস্তবতা নয়, বরং কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত এক অনস্বীকার্য সত্য। একটি সুস্থ পরিবার গড়ে উঠলে গড়ে ওঠে একটি সুস্থ সমাজ, আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় আল্লাহভীরু ও মানবিক প্রজন্ম।

আজ প্রয়োজন পরিবারকে সময় দেওয়া, ভালোবাসা দেওয়া, দ্বীনি শিক্ষায় আলোকিত করা। কারণ পরিবার ভেঙে গেলে সমাজ ভেঙে পড়ে, আর পরিবার শক্ত হলে উম্মাহও শক্ত হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের পরিবারগুলোকে ভালোবাসা, রহমত ও ইমানের আলোয় ভরিয়ে দিন। আমিন।