সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত অনেকেই দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন। সে সময় দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যারা মনোনয়ন পাননি, তাদের বিকল্পভাবে মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষ করে নির্বাচন শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ ও দলীয় কমিটিতে তাদের বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার আগেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতার মধ্যে সেই মূল্যায়ন নিয়ে এক ধরনের অধৈর্য্য মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে যেসব নেতা সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা পাননি, তাদের একটি বড় অংশ এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন কিংবা প্রশাসনিক দায়িত্ব পাওয়ার আশায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগকে অনেকেই বিকল্প মূল্যায়নের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের বিভিন্নভাবে দায়িত্ব দিয়ে মূল্যায়নের প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে।
অন্যদিকে জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়েও বিএনপির নেতাদের মধ্যে এখন আলোচনা ও তৎপরতা বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেওয়া কিংবা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য নির্বাচনে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন পাওয়ার আশায় অনেক নেতা ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করেছেন। পাশাপাশি নিজেদের এলাকায় সাংগঠনিক তৎপরতাও বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দলের ভেতরে যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব এখন স্থানীয় রাজনীতিতেও পড়ছে। ফলে অনেক নেতা দ্রুতই নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুব শিগগিরই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন করা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই কমিটি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। নতুন কমিটি ঘোষণাকে সামনে রেখে এখন থেকেই সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে নানামুখী তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
আসন্ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে অনেক নেতা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। কেউ কেউ আবার নিজ নিজ অনুসারীদের সক্রিয় করার পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, বিকল্প মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে। তবে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বর্তমানে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে তাতে বোঝা যায় মনোনয়ন বঞ্চিত অনেক নেতাই দ্রুত কোনো না কোনো দায়িত্ব বা অবস্থান নিশ্চিত করতে চান।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে এখন এক ধরনের নীরব প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং আসন্ন দলীয় কমিটি এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই মূলত নেতাদের তৎপরতা বাড়ছে। আর বিকল্প মূল্যায়নের সেই প্রতিশ্রুতিই এখন অনেক নেতার প্রত্যাশা ও অধৈর্য্যের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।