স্টাফ রিপোর্টার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বনানীতে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বলেছেন, নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে এক মাসের কম সময়ে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছেন।
তিনি জানান, কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা এলাকায় মোট ১৫ হাজার নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস প্রকাশ করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি পরিবারের সব সদস্যকে এই কার্ডের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী ১৭টি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ডের রেপ্লিকা তুলে দেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা একটি দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করতে চাই। যে সরকার জনগণ ও দেশের জন্য কাজ করবে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে সক্ষম হবে। নির্বাচনের আগে আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, সরকার গঠন করলে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু করা হবে। নির্বাচনের মাত্র এক মাসের কম সময়ে আমরা সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু করেছি।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের সফল বাস্তবায়নের পর আগামী মাসে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড কার্যক্রম চালু করা হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, “আমরা যেকোনো মূল্যে আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব। আমাদের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত আনন্দ ও আবেগের দিন।”
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ইতিমধ্যে কৃষকদের সুদসহ কৃষি ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জনগণের প্রতিনিধিমূলক ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। “এই সরকার জনগণ নির্বাচিত করেছে, তাই স্বাভাবিকভাবে জনগণের কাছে জবাবদিহি করা বাধ্যতামূলক,” তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশের বিশিষ্ট নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, শুরুতে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো কৃষি কার্ড কার্যক্রমও ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, প্রতিটি পরিবারের নাগরিক সেবা ও আর্থ-সামাজিক সুযোগ-সুবিধার সুফল নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার জনগণের সুবিধার্থে প্রতিটি উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং প্রতিশ্রুতির প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম হলো সেই প্রতিশ্রুতির প্রথম ধাপ।”
উল্লেখ্য, এই কর্মসূচির আওতায় নারী প্রধানদের ক্ষমতায়ন এবং সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে সমতা ও সুরক্ষা বৃদ্ধির দিকে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।