স্টাফ রিপোর্টারঃ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে চীন। গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের জবাবে চীন একাধিক দফায় পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল। তবে সেটি গত বছরের নভেম্বরে সীমিত করেছে। তবে সাম্প্রতিক ইস্যুতে আবারও শুল্কারোপের কথা ভাবছে বেইজিং।
ট্রাম্প চীন থেকে আমদানির ওপর ২০% শুল্ক আরোপ করেছেন। কয়েকদফায় সেটি বেড়ে কয়েকগুণ হয়েছিল। জবাবে চীন কৃষিপণ্য ও জ্বালানি খাতে নির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করে। বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) খাতে নিজেদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিতেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এতে দুদেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়।
শুল্কারোপের ঘোষণা ট্রাম্প দেওয়ার পরপরই মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস তার আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দেয়। ওই আইনের অধীনে চীন থেকে আমদানির ওপর ২০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।
রায়ের পর ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘ট্রেড অ্যাক্ট’-এর সেকশন ১২২-এর অধীনে সব দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০% শুল্ক আরোপ করবেন। পরে ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে তিনি জানান, এই হার বাড়িয়ে ১৫% করা হবে।
ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর চীন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা সমন্বয় করবে কি না, সে বিষয়ে ‘যথাসময়ে’ সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে।
মঙ্গলবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, আসন্ন ষষ্ঠ দফা যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য আলোচনায় চীন খোলামেলা আলোচনা করতে প্রস্তুত। চীন সব ধরনের একতরফা শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফা শুল্ক প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে এমন শুল্ক আরোপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।
এদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফরে যাবেন এবং সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ঠিক আগেই এই সফরের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা ট্রাম্পের বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।