স্টাফ রিপোর্টার: সিদ্ধিরগঞ্জে জুলাই আন্দেলনের হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ছাত্রলীগ ক্যাডার সায়হান এখন ১ নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সহ-সভাপতি। সম্প্রতি সায়হান তার ফেসবুকে ছবিসহ দেওয়া একটি স্ট্যাটসে উল্লেখ করেন “বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় নেতা মো. আলীনুর হোসাইন সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ ১নং ওয়ার্ড বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল এর সহ-সভাপতি মো. সায়হান, নারায়ণগঞ্জ ৩ এর মাননীয় এমপি মহোদয় আজহারুল ইসলাম মান্নান আঙ্কেলে কে ফুলের শুভেচ্ছা”।
এরপর থেকে বিএনপি ও তৃনমূলে জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে।
নব নির্বাচিত এমপির শেল্টারে নিষিদ্ধ সংগঠন ফ্যাসিস্ট ছাত্রলীগের ক্যাডারদের শেল্টার দেয়া ও কৃষক দলের কমিটিতে পদ দেয়ায় অনেকেই জুলাই বিপ্লবের শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অপরদিকে কৃষক দলে ছাত্রলীগের ক্যাডার সায়হানকে অন্তভুর্ক্ত করার বিষয়টি জানাজানি হলে খোদ দলের তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, তারেক রহমানের উন্নয়নের কর্মকান্ডকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি মহল সুকৌশলে ফ্যাসিস্ট দোসরদের বিএনপির ছায়াতলে নিয়ে আসছে। এটাই তার বাস্তব প্রমাণ।
জানাগেছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ছাত্রলীগের রাজনৈতিক পরিচয়ে সায়হান সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রভার বিস্তার করে নেট ও ডিস ব্যবসা পরিচালনা করতো। এই ব্যবসা বহাল রাখতে গিয়ে সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এমন কেনো অপরাধ কর্মকান্ড নেই যা সায়হান ও তার লোকজন না করতো। ডিস বাবুর সাথেও ছিলো তার গভীর সখ্যতা। মিজমিজি এলাকায় এলাকায় এক সময় আতংকের নাম ছিলো সায়হান। এরই মধ্যেই সে বনে যায় টাকার কুমির।
জুলাই আন্দেলনের অংশগ্রহনকারী ছাত্র-জনতাকে প্রতিহত করতে অগ্রনী ভুমিকা ছিলো সায়হানের। গত ২০ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোড এলাকায় বিদ্যুৎ অফিস, ভূমী পল্লীর সামনের সড়কে ছাত্র-জনতার উপর অতর্কিত হামলা করে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাথারিভাবে গুলি চালালে গুলি লেগে আহত হন যুবক জসিম খান। এঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সায়হান। মামলা নং (৩০) ৩০-১০-২৪।
৫ আগষ্টের পর সে গা ঢাকা দিলেও সম্প্রতি বিভিন্নভাবে অপকৌশলে টাকার জোরে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছে বলে চাউর রয়েছে। এরফলে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একজন অভিযুক্ত ক্যাডারের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়া নিয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিতর্কিত নেতাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।
বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, আন্দোলনের সময় যারা আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন, তাদের পুনর্বাসন জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। তাই জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ছাত্রলীগ ক্যাডার সায়হানকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হউক। সেই সাথে দলের ভিতরে ডুব দিয়ে থাকা দল বিনষ্টকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যাতে আর কেউ এরকমভাবে ফ্যাসিস্ট দোসরদের আশ্রয় পশ্রয় দিতে সাহস না পায়।