স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ বন্দরের বিভিন্ন কেন্দ্রে যখন প্রতিকূল খবরের আনাগোনা, ঠিক তখনই ধানের শীষের সম্মান রক্ষায় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ১৯নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীরা। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ২৫৪ ভোটের এক কঠিন জয় ছিনিয়ে এনেছেন এ্যাডভোকেট আলহাজ্ব আবুল কালাম।
১৯নং ওয়ার্ডের ৩টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ মোট ২৭৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক পেয়েছে ২৪৮৯ ভোট।
মদনগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২টি কেন্দ্র): এখানে ধানের শীষ ১৭৫৫ ভোট পেয়ে দাপট দেখালেও দেওয়াল ঘড়ি পায় ১৫০১ ভোট।
কেরামতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র: এই কেন্দ্রে দেওয়াল ঘড়ি ১২০২ ভোট পেয়ে ধানের শীষকে পেছনে ফেলে দেয়।
তবে তিনটি কেন্দ্রের সামষ্টিক অংকে ২৫৪ ভোটের ব্যবধানে শেষ হাসি হাসেন আবুল কালামই।
বন্দরের বেশ কিছু এলাকায় বিএনপির বিপর্যয়ের খবরের মাঝে ১৯নং ওয়ার্ডে এই জয়কে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দলের কর্মীদের ‘সম্মান রক্ষার লড়াই’ হিসেবে। এই মিশনে মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের মধ্যে ১৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম,সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশরাফ হোসেন, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য আল মামুন,মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ফারুক চৌধুরী, বন্দর থানার সাবেক যুবদল নেতা আলী নওশাদ তুষার ও মোহাম্মদ আলম অন্যতম।
এলাকার রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, জামায়াত অধ্যুষিত এবং আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মদনগঞ্জে ধানের শীষের এই জয় সহজ ছিল না। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে দেওয়াল ঘড়ির আধিপত্য ছিল লক্ষ্যণীয়। নির্বাচনের আগে ঘারমোড়া, আলীনগর ও মদনগঞ্জ এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপক ‘উঠান বৈঠক’ নারী ভোটারদের অনেকটা দেওয়াল ঘড়িমুখী করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজয় এলেও ভোটের ব্যবধান ও প্রতিপক্ষের উত্থান বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা দিচ্ছে। দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই ওয়ার্ডে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে দলকে আরও সুসংগঠিত ও সক্রিয় করা জরুরি।