সোজাসাপ্টা রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসের কাছে হারলেও সংসদে যেতে পারবেন এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিজয় এবং জুলাই সনদের আলোকে গঠিতব্য উচ্চকক্ষে (সিনেট) এনসিপির পক্ষ থেকে সদস্য হিসেবে তার নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায় আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উচ্চকক্ষে মোট ১০০ সদস্য থাকবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত ভোটের শতাংশের ভিত্তিতে এই সদস্যরা মনোনয়ন পাবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে এনসিপি মোট ২২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়েছে, যা মোট ভোটের ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। এই হিসাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষে এনসিপির অন্তত তিনটি আসন পাওয়ার কথা।
দলটির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই তিনটি আসনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সবার ওপরেই আছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। যদিও দলের অভ্যন্তরে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত। ধারণা করা হচ্ছে— উচ্চকক্ষে তার জায়গা হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। তবে তিনি যদি আগামী ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, সেক্ষেত্রে তিনি উচ্চকক্ষের সদস্য পদে না-ও যেতে পারেন।
এদিকে নির্বাচনি প্রচার ঘিরে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে সোশ্যাল মিডিয়িায় ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন পাটোয়ারী। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এই আসনের রেজাল্টের দিকে নজর ছিল দেশবাসীর।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা জানান, উচ্চকক্ষে কারা যাবেন, তা নিয়ে জোটের মধ্যে এবং নিজেদের দলের অভ্যন্তরে এখনও আলোচনা চলছে। দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-৮ আসনের ১০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিতে সরাসরি ভোট গ্রহণ হয়। এতে বিএনপির মির্জা আব্বাস ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট পান। এর সঙ্গে তিনি ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। তাতে মোট ভোট পড়ে ৫৯ হাজার ৩৬৬।
অন্যদিকে ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ১০৮টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। এর সঙ্গে তিনি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫টি। তাতে তার পক্ষে মোট ভোট পড়ে ৫৪ হাজার ১২৭টি।