আবু সাউদ মাসুদ
প্রকাশ : Feb 19, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আবেগঘন পোস্ট এটিএম কামালের

স্টাফ রিপোর্টার
বাবাকে নিয়ে আবেগঘন একটি লেখা ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। পাঠকদের জন্য তাঁর লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
বাবা আমার বাবা। আমরা ভাইবোনেরা তাঁকে ডাকতাম- আব্বা। জীবদ্দশায় যাকে আমি এক মুহূর্তের জন্যও শান্তি দিইনি। ছেলেবেলায় আমার বিরুদ্ধে শত অভিযোগের যন্ত্রণা নীরবে সহ্য করতে হতো তাঁকে। লেখাপড়ায় অমনোযোগী হওয়ায় গৃহশিক্ষক ও স্কুলের শিক্ষকদের অভিযোগের কারণে শিক্ষক বদল, স্কুল বদল, সবই তাঁকেই সামলাতে হয়েছে।
৭১-এ বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলাম মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে। স্বাধীনতার পর সোনারগাঁ থেকে নারায়ণগঞ্জে আসার পর তিনি আমাকে বার একাডেমিতে ভর্তি করালেন। কিন্তু পড়াশোনায় তো আমার মন নেই।
আবার বাড়ি ছেড়ে পালালাম- বান্দরবানে যাব, কমরেড সিরাজ শিকদারের সর্বহারা পার্টিতে যোগ দেব। আব্বা পাগলের মতো খুঁজতে খুঁজতে চৌদ্দগ্রাম থেকে আমাকে ফিরিয়ে আনলেন। কত যন্ত্রণা যে তাঁকে দিয়েছি, বলে শেষ করা যাবে না। তারপরও তিনি ধৈর্য হারাননি। আহা! আমাকে একটি সুন্দর জীবন ও ভবিষ্যৎ দেওয়ার কী প্রাণান্ত চেষ্টা!
তারপর শীতলক্ষ্যার পানি কত গড়িয়েছে, মেঘে মেঘে কত বেলা এলো গেল- তার হিসেব কে রাখে।
১/১১ এর পর থেকে যখন আমি ঘন ঘন জেলে যাচ্ছি, তখন থেকেই আব্বার শরীর ভাঙতে শুরু করল। আমি জেলে থাকলে তিনি সারারাত জেগে থাকতেন। কারাগারে আমি শোয়ার জায়গা পেয়েছি কিনা, ঠিকমতো খাবার পাই কিনা, রিমান্ডে নিয়ে মারধর করে কিনা- এসব নিয়েই তাঁর অস্থিরতা।
একবার জেল থেকে বের হওয়ার পর আমাকে ডেকে বললেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাড়ির তাঁর অংশটুকু আমার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে লিখে দেবেন। বললেন, তুই রাজনীতির পেছনে পাগলের মতো টাকা খরচ করিস। বিদেশের ২০ বছরের উপার্জন শেষ করেছিস, তোর বউয়ের গয়নাগাটিও রক্ষা পায়নি। এখন তুই আমার বাড়িটাও বিক্রি করে ফেলবি। আব্বার সেই শেষ ইচ্ছাটি তিনি পূরণ করে যেতে পারেননি।
বছর খানেক পর জেল থেকে বের হয়ে হাসপাতালে গেলাম তাঁকে দেখতে। তিনি তখন আর ঘুমাতে পারেন না- রাতদিন বিছানায় বসেই থাকেন। আমাকে দেখে কাছে ডেকে পাশে বসতে বললেন। অনেকক্ষণ বাপ-ছেলে নীরবে বসে রইলাম। একসময় বললাম, আব্বা, যাই।
তিনি বললেন, এখনই চলে যাবি? পরে যা।
বললাম, সকালে আসব।
তিনি বললেন, আসবিই কিন্তু।
এই ছিল তাঁর মুখে শোনা আমার শেষ কথা।
ভোররাতে ছোটবোন শাহীন ফোন করল- আব্বা নেই। ছুটে হাসপাতালে গেলাম। অনেকদিন পর আব্বা ঘুমাচ্ছেনৃ গভীর ঘুমৃ শান্তির ঘুম।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ না হলে কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, প্র

1

বিএনপিকে অভিনন্দন জানাল জাতীয় পার্টির একাংশ

2

মোদিকে নিয়ে ট্রাম্পের করা পুরোনো মন্তব্য নতুন করে সমালোচনায়

3

বর্জনের ঘোষণা দিলেও নির্বাচনের মাঠে ছিলেন আ.লীগ নেতাকর্মীরা

4

বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার

5

পুতিন-কিমের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প

6

বিএনপির ইচ্ছা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন: উ

7

বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় যারা

8

ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি হবে বিরোধী দল থেকে

9

কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

10

৩০ বছর পর আ. লীগের দুর্গে জামায়াত, কপাল পুড়ল ডা. প্রিয়াঙ্কা

11

সস্তা তামাশায় পরিণত হয়েছে রাজনীতি—ট্রাম্পের বর্ণবাদী ভিডিওর

12

মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী দায়িত্ব পেলেন যে মন্ত্রণালয়ের

13

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট

14

শ্রীলংকাকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু বাংলাদেশের

15

মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ

16

কাল বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ

17

রমজানেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড

18

৪৮ রানে ৭ উইকেট হারাল পাকিস্তান, ওয়ারিকানের স্পিন–ঘূর্ণি

19

পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় ইরান

20