স্টাফ রিপোর্টার
রমজান এলেই ইফতারের তালিকায় ছোলা অপরিহার্য। সেই চাহিদা মাথায় রেখে এবার নারায়ণগঞ্জের বাজারে ছোলার দামে স্বস্তি ফিরেছে। আমদানি স্বাভাবিক থাকায় ও সরবরাহ পর্যাপ্ত হওয়ায় বাজারে কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ছোলার বড় অংশ আসে অস্ট্রেলিয়া থেকে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাড়ে সাত মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৮ টন ছোলা খালাস হয়েছে। এর সঙ্গে আগের বছরের অবিক্রিত মজুত যোগ হওয়ায় বাজারে সরবরাহ আরও বেড়েছে।
ছোলার বড় আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, বর্তমানে আমদানিকারকরা পাইকারদের কাছে প্রতি মণ ছোলা ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এতে কেজিপ্রতি দাম পড়ছে প্রায় ৬৯ টাকা। ভালো মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭৪ টাকা পর্যন্ত। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়াতে ছোলার হারভেস্টিং মৌসুম অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলে। এবার ডলার সংকট না থাকায় পর্যাপ্ত এলসি খোলা হয়েছে, ফলে বাজারে সংকটের আশঙ্কা নেই।
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবছর গড়ে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ছোলা আমদানি হয়। চলতি মৌসুমে এরই মধ্যে প্রায় দুই লাখ মেট্রিক টন ছোলা খালাস হয়েছে। পাইপলাইনে থাকা চালানগুলোও দ্রুত ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর প্রভাব পড়েছে নারায়ণগঞ্জের পাইকারি ও খুচরা বাজারে। শহরের টানবাজার, চাষাড়া ও খানপুর এলাকার আড়তগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দোকানে দোকানে ছোলার ভরপুর সরবরাহ। পাইকারি বাজারে অস্ট্রেলিয়ার ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭২ থেকে ৮৫ টাকায়। প্রিমিয়াম মানের ছোলার দাম কিছুটা বেশি হলেও তা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। পাকিস্তানি কাবলি (সাদা) ছোলা পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৮০ টাকায়।
টানবাজার থেকে ছোলা কিনতে আসা খুচরা বিক্রেতা মোহাম্মদ লোকমান বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার কেজিতে প্রায় ২৫ টাকা কম। রমজান শুরুর আগে দু-এক দিন বেচাকেনা বেশি থাকবে, এরপর বাজার কিছুটা শান্ত হবে।”
চাষাড়া এলাকার একটি মুদি দোকানে খুচরায় ভালো মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। দোকানিরা বলছেন, সামনে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে।
খানপুর এলাকায় বাজার করতে আসা গৃহিণী ইয়াসমিন আক্তার বলেন, “এবার ছোলার দাম তুলনামূলক কম। তবে সবাই যদি পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে না করে, সপ্তাহের প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করে, তাহলে দাম আরও স্থিতিশীল থাকবে।”
সব মিলিয়ে, পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুতের কারণে নারায়ণগঞ্জে রমজানকে সামনে রেখে ছোলার বাজারে স্বস্তির হাওয়া বইছে।