সোজাসাপটা রিপোর্ট
দীর্ঘ সতেরো বছর পর আজ অবশেষে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের সাধারণ ভোটাররা। বহু প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনকে ঘিরে শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা। অনেকেই মনে করছেন, এই ভোট শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
এবারের নির্বাচনে জেলার প্রায় অর্ধেক ভেটার নারী। নির্বাচন নিয়ে নারী ভোটারদের নারী ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন বলছেন, যেন এই দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকে। প্রবীণ ভোটারদের মধ্যেও দেখা গেছে আলাদা উচ্ছ্বাস। তাদের ভাষায়, “অনেক বছর পর আবার ভোট দিতে পারছি, এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ থাকলেও সংঘাতের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অতীত অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি।
সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, যাতে সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ২ হাজার ১৯৬ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতায় এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। এই শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে আরও সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মোট ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে ৮১টি মোবাইল পার্টি, ১৪টি স্ট্রাইকিং পার্টি ও ১১টি স্ট্যান্ডবাই পার্টি দায়িত্ব পালন করবে। সাতটি থানা এলাকায় ৬ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ১ জন সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জরা সার্বিক তদারকি করবেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট চলাকালে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যেন ভয়ভীতি বা প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের আশা, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। তাদের মতে, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে।