স্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের পরিচয় ব্যবহার করে একটি কারখানায় লুটপাট ও কর্মীদের কুপিয়ে যখম করার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় ব্লো ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজ নামক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কারখানার মালিক মোনোয়ার হোসেন অপু বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন।
হামলাকারীরা কারখানার ম্যানেজার ও ফোরম্যানকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে নগদ ২০ লক্ষাধিক টাকাসহ প্রায় ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম হলেন, দাউদপুর ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য বেলায়েত আকন্দ, একই এলাকার বাসিন্দা মো. কাজল ও নিশাত আকন্দ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে কাজল আকন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের আপন ছোট ভাই ও নিশাত তার আপন ভাতিজা।
মামলায় বলা হয়েছে, নিশাত আকন্দ কারখানা মালিকের কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করলে তা দিতে অস্বীকার করায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল অংশ নেয়৷ তারা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কারখানার মেইন গেট ও বাউন্ডারি প্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় কারখানার ম্যানেজার অলিউল্লাহ (২৪) বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় এবং লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে। আত্মরক্ষার চেষ্টায় অলিউল্লাহর বাম হাত ভেঙে যায় এবং পায়ের উরুতে গুরুতর জখম হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে প্রোডাকশন ফোরম্যান জুলহাসকেও (৫০) পিটিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কারখানা মালিক বলেন, ‘প্রায় তিনমাস আগে নিশাদ আকন্দ নিজেকে হুমায়ুন সাহেবের ভাতিজা পরিচয়ে চাঁদা দাবি করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সে হামলা ও কারখানা বন্ধের হুমকি দেয়। বিষয়টি আমরা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে হুমায়ুন সাহেবকে জানালেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। আমরা তখন থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিই৷ তখন কাজল নামের ব্যক্তি নিজেকে হুমায়ুন সাহেবের ভাই পরিচয় দিয়ে বলেন চাঁদা ন দিলে এলাকায় ব্যবসা করা যাবে না। আর থানায় গেলে আগুন দিয়ে পুরো কারখানা পুড়িয়ে দেয়া হবে। তারপর আরো তিন দফায় আমরা হুমায়ুন সাহেবকে বিষয়টি জানিয়েছি৷ কিন্তু তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিএনপি শপথ নিয়ে সরকার গঠনের পর পর কারখানায় হামলা হয়।
তার অভিযোগ হামলাকরীরা কারখানার সিসি ক্যামেরা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার ক্ষতি করেছে। এরপর তারা ট্রাক নিয়ে এসে কারখানার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল লুট করে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকার সম্পদ লুট করে সটকে পড়ে হামলাকারীরা। যাওয়ার সময় তারা শ্রমিকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সবজেল জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন মুঠোফোনে বলেন, ‘ কারখানাটি এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছিল। ওরা (অভিযুক্তরা) কারখানা কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানাতে গেলে কথা কাটাকাটি হয়েছে। হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ মিথ্যা।’