স্টাফ রিপোর্টার
অবহেলিত নাগরিক সেবাবঞ্চিত নাগরিকদের স্বার্থে নারায়ণগঞ্জের (খ) শ্রেণিভুক্ত সোনারগাঁও পৌরসভার নির্বাচন অতিদ্রুত অনুষ্ঠানের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর দরখাস্ত দাখিল করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম রোকন। তিনি সোনারগাঁও পৌরসভার নাগরিক হিসেবে এই দরখাস্ত দাখিল করে জনপ্রতিনিধিবিহীন দীর্ঘ ৪ বছরের নাগরিকদের দূর্ভোগ ও ভোগান্তি প্রধানমন্ত্রীর বরাবর তুলে ধরেন।
১৮ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এই দরখাস্ত দাখিল করেন অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম রোকন। একাধারে তিনি একজন গণমাধ্যম কর্মী এবং তিনি সোনারগাঁও পৌরসভাধীন দরপত ঠোটালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এই দরখাস্তের অনুলিপি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নারায়ণগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক বরাবর দাখিল করা হয়।
লিখিত দরখাস্তে তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে (খ) শ্রেণীভুক্ত সোনারগাঁও পৌরসভার নির্বাচন সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে গঠিত এই পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছেন ২৭ হাজার ৫’শত ২৬ জন। ২০২১ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারী মেয়র সাদেকুর রহমান ভূঁইয়া, ৯জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ৩জন সংরক্ষিত কাউন্সিলরের এই পরিষদের ৫ বছর মেয়াদ সম্পন্ন হয়। পরিষদের মেয়াদ শেষ হলেও সোনারগাঁও পৌরসভার ছোট শিলমান্দি ও মল্লিকেরপাড়া মৌজার কিছু সম্পত্তি মোগরাপাড়া ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সীমানা সংক্রান্ত বিষয়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে মামলা দায়েরে জটিলতার সৃষ্টি হলে নির্বাচন স্থগিত রয়ে যায়। অত:পর পরিষদের মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ মাস পর উক্ত পরিষদকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে ২০২২ সালের ১৬ মে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ এলাহীকে এক প্রজ্ঞাপনে পৌর প্রশাসক পদে নিয়োগ প্রদান করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালে সীমানা সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা জটিলতার নিষ্পত্তি হলে ওই বছরের ৪ঠা এপ্রিল এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়। ১৫ দিনের মধ্যে কারো কোনো আপত্তি থাকলে লিখিত আপত্তি জানানোর অনুরোধ করা হয় গণবিজ্ঞপ্তিতে। কোনো অভিযোগ বা আপত্তি না থাকায় জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ বরাবর তৎকালীন সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সীমানা কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহীম একটি প্রতিবেদন চিঠি আকারে পাঠান।
এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা তৈরি হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন সম্ভাব্য মেয়রসহ অন্যান্য প্রার্থীগণ। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণাও চলতে থাকে পুরোদস্তর তারা। এতে স্থানীয় জনগণের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু ২০২৩ সালের ৯ মে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য পৌরসভার সীমানা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে এক চিঠি প্রেরণ করলে আবারো নির্বাচন অনুষ্ঠান বন্ধ রয়ে যায়। সোনারগাঁও পৌরসভার পার্শ্ববর্তী মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, বাড়ি মজলিশ, বাড়ি চিনিশ, হাবিবপুর, কোম্পানীগঞ্জ, ছোট সাদিপুর, বন্দেরা, সোনাখালী ও চর মেনিখালী এলাকাকে সম্পৃক্ত করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে এই চিঠি দেন তৎকালীন এমপি। পরে দ্বিতীয় মেয়াদে ওই বছরের ১৭ই আগস্ট তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ান উল ইসলামকে পৌরসভার প্রশাসক নিয়োগ দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়। অদ্যাবধি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে পদাধিকবার বলে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এমন অবস্থায় চরম দূর্ভোগ আর ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরসভার নাগরিকেরা। নাগরিক সেবাবঞ্চিত পৌরবাসী। কর পরিশোধ করলেও নাগরিক সেবা নাই। জন্মনিবন্ধন সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যুসনদ সংগ্রহে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাস্তাঘাট তৈরি, সংস্কার ও মেরামত, মশকনিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ কিছুই হচ্ছেনা বিগত ৪ বছর যাবত। নাগরিকদের ছোট ছোট কাজের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দৌড়াতে হয়, অনেকের জন্য যোগাযোগ সম্ভব হয়ে ওঠেনা। পৌরসভার নিজস্ব কোনো জমি নেই, হাট-বাজার প্রতিষ্ঠান নেই বা আয়ের কোনো উৎস নেই। পৌরবাসীর উন্নয়ন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পৌর কার্যালয়টিও আতুরঘরে পরিনত হওয়ার পথে। সোনারগাঁও পৌরসভায় নির্বাচিত মেয়র অর্থাৎ অভিভাবক না থাকায় নাগরিক তার নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, একই সঙ্গে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এমতাবস্থায় নাগরিক সেবা ঘরে ঘরে পৌছে দিতে অতিদ্রুত সোনারগাঁও পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠান অতীব জরুরী। ১২ই ফেব্রুয়ারী’২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নতুন সরকার গঠিত হওয়ায় আশান্বিত সোনারগাঁও পৌরবাসী।
অতএব, সোনারগাঁও পৌরসভাধীন নাগরিক হিসেবে ভোগান্তির শিকার হইয়া ভুক্তভোগী নাগরিকদের পক্ষ হইতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার সমীপে সোনারগাঁও পৌরসভার নির্বাচন অতিদ্রুত অনুষ্ঠানের আয়োজনের ব্যবস্থা করিয়া নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হাতে দায়িত্ব তুলিয়া দেয়ার ব্যবস্থা করিয়া নাগরিক সেবা ফিরাইয়া দেয়ার ব্যবস্থা করিলে চির কৃতার্থ থাকিবো।