৫ বছর পর চালু হতে যাচ্ছে ভারত–চীন সরাসরি ফ্লাইট

- আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৪ জন পড়েছেন
পাঁচ বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ভারত ও চীন আবারও সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ও বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ দুটির আকাশপথে নতুন সংযোগ ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে পা রাখছে।
সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে তিয়ানজিনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। যদিও কবে থেকে ফ্লাইট চালু হবে তা এখনো জানানো হয়নি। সাত বছর পর চীন সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে জাপান সফর শেষ করেই তিনি এ সম্মেলনে যোগ দেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে টানাপোড়েনের সময়ে দিল্লি ও বেইজিংয়ের এই নতুন বোঝাপড়া কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সমীকরণের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপরে শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, বিশেষ করে রাশিয়ার তেল আমদানিকে ঘিরে দিল্লির ওপর চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের মাঝেই বেইজিং আপাতত এক ধরনের যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ভারত ও চীনের ঘনিষ্ঠতা নতুন করে কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারতের সবচেয়ে বড় বেসরকারি এয়ারলাইন ইন্ডিগো ইতোমধ্যেই চীনের উদ্দেশ্যে ফ্লাইট চালুর আগ্রহ জানিয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়াও এ রুটে ফের যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে চীনের প্রধান তিন এয়ারলাইনস—এয়ার চায়না, চায়না সাউদার্ন ও চায়না ইস্টার্ন– এরও ভারতীয় শহরে ফের ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। করোনা মহামারির সময় দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০২০ সালে সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সেই যোগাযোগ আর পুনরায় শুরু হয়নি। এই সময়ে দুই দেশের মানুষ যাতায়াতের জন্য হংকং বা সিঙ্গাপুরকে বিকল্প ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অথচ এর আগে দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা থেকে বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংজু, চেংডু শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালু ছিল। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অংশ হিসেবে চলতি বছরের জানুয়ারি ও জুনে দুইবার আলোচনায় সরাসরি ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে এবারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসায় আকাশপথে নতুন এক সেতুবন্ধন তৈরি হতে চলেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেছেন, যেখানে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথ সহজ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এরপর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াংই দিল্লিতে এসে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর মোদি বলেছিলেন, পারস্পরিক স্বার্থকে সম্মান জানিয়ে ভারত ও চীনের সম্পর্ক এগোচ্ছে। গত জুলাই মাসে ভারত পর্যটক ভিসা চালুর অনুমতি দেয় চীনা নাগরিকদের জন্য, দীর্ঘদিনের কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তাপ, তেলবাজারের অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনীতির অস্থিরতায় সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হওয়া কেবল দুই দেশের যাত্রীদের জন্য স্বস্তি নয়, বরং ব্যবসা-বাণিজ্য ও কূটনীতির নতুন দিগন্তও উন্মোচন করবে।