নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী ‘হেভিওয়েট’ লড়াইয়ের নতুন সমীকরণ
- আপডেট সময় : ০৪:২০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২৪১ জন পড়েছেন
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে লড়াই এখন বহুমুখী ও ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান করার ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রিপাবলিকান পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান আবু হানিফ হৃদয় বলেন, “নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী এক অনন্য নাম। শামীম ওসমান বা সেলিম ওসমান বলেন বা বর্তমানে বিএনপির প্রভাবশালী যাদের কথাই বলেন তারাই মূলত বিভিন্ন প্রয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর কাছে আসতেন, আসেন। তিনি কখনো কারো দালালী করেননি বরং দলমত নির্বিশেষে সবার আস্থার প্রতীক হয়ে কাজ করেছেন। তাকে ঘিরেই রিপাবলিকান পার্টির উত্থান এবং অতি শীঘ্রই কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ বা বিএনপির বড় বড় নেতারা যেখানে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে পারেননি, সেখানে মোহাম্মদ আলী আজ একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এবার এক অন্যরকম ‘হেভিওয়েট’ লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি থেকে সাবেক এই সংসদ সদস্য (মোহাম্মদ আলী) এবারও মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে দল থেকে জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
দলের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা। মোহাম্মদ আলীর পাশাপাশি এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ইতিমধ্যেই গিয়াসউদ্দিন ও শাহ আলমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় ভোটারদের মতে, এই তিনজনেই সাবেক বিএনপি নেতা এবং এলাকায় তাদের বিশাল জনসমর্থন রয়েছে, যার ফলে ভোট যুদ্ধ এখন চরম উত্তেজনাকর মোড় নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আলী বলেন, “নির্বাচনী মাঠে যারা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন তারা সবাই ভালো। তবে জনপ্রিয়তার বিচারে তারা কেউ আমার ধারে কাছে নেই। আমি সাতটি ইউনিয়নে মানুষের জন্য কাজ করেছি এবং তাদের ভালোবাসা আমার সাথে আছে।”
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “কোনো শঙ্কা নেই, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে। আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী, তবে সবকিছুর নির্ভর করছে ভোটারদের ওপর।” নির্বাচিত হলে তার প্রথম কাজ হবে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন করা এবং নারায়ণগঞ্জকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা—এমন প্রশ্নে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমি নির্বাচনে ছিলাম, আছি এবং শেষ পর্যন্ত থাকবো।”
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই লড়াইয়ে জোট প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর বিপরীতে তিন হেভিওয়েট সাবেক বিএনপি নেতার (মোহাম্মদ আলী, গিয়াসউদ্দিন ও শাহ আলম) অংশগ্রহণ এই আসনটিকে সারা দেশের মধ্যে অন্যতম আলোচিত আসনে পরিণত করেছে।






















