গাজায় শত শত ফিলিস্তিনির কবর ধ্বংস করে ইসরাইলি সেনাদের উল্লাস!
- আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২ জন পড়েছেন
গাজায় একের পর এক কবরস্থান ধ্বংস এবং ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহের অবমাননা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলেও ইসরাইলি বাহিনীর এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি উত্তর গাজার একটি ফিলিস্তিন কবরস্থান থেকে রণ গিভিলি নামক এক ইসরাইলি জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ‘অসাধারণ সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলি টেলিভিশনগুলোতে দেখা গেছে, সেই কবরস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে ইসরাইলি সেনারা হিব্রু গান গেয়ে উল্লাস করছে।
পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো এই অভিযানকে ইসরাইলের জন্য ‘জাতীয় নিরাময়ের মুহূর্ত’ হিসেবে প্রচার করলেও, গাজার মাটিতে এই অপারেশন ফিলিস্তিনের পরিবারগুলোর জন্য বয়ে এনেছে অবর্ণনীয় যন্ত্রণা ও আতঙ্ক।
এই তথাকথিত উদ্ধার অভিযানের সময় ইসরাইলি বাহিনী কবরস্থানের কাছে চারজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং শত শত ফিলিস্তিনি কবর বুলডোজার দিয়ে তছনছ করেছে। এর ফলে অসংখ্য পরিবারকে তাদের প্রিয়জনদের ছিন্নভিন্ন দেহাংশ নতুন করে খুঁজে বের করে পুনরায় দাফন করতে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কবরস্থান রক্ষা এবং মৃতদেহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন একটি বাধ্যতামূলক বিষয় হলেও, গাজায় ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ডকে জেনেভা কনভেনশনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং একটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ‘সম্মিলিত শাস্তি’, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুতেও ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া।
ইসরাইলি পক্ষ থেকে প্রায়ই দাবি করা হয় যে হামাস সামরিক উদ্দেশ্যে কবরস্থান ব্যবহার করছে। তবে সিএনএন-এর প্রতিবেদন এবং স্যাটেলাইট ইমেজ বলছে ভিন্ন কথা। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত গাজায় অন্তত ১৬টি ফিলিস্তিন কবরস্থান ধ্বংস করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, পুরো কবরস্থান গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের সামরিক অবস্থান তৈরি করেছে। শুধু গাজা নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনের মুসলিম ও খ্রিস্টানদের কবরস্থানে নিয়মিতভাবে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে এটি কেবল সামরিক প্রয়োজনীয়তা নয়, বরং একটি পদ্ধতিগত বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ।
মৃতদেহের ওপর ইসরাইলের এই নিষ্ঠুরতা আরও ভয়াবহ রূপ নেয় যখন গত বছর গাজায় শত শত ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত পাঠানো হয়। এসব মরদেহের অনেকগুলোতে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল এবং কিছু দেহ এতটাই বিকৃত ছিল যে সেগুলোকে শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বর্তমানে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে অনেক ফিলিস্তিনির মরদেহ ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে, যা তারা ‘দর কষাকষির মাধ্যম’ হিসেবে ব্যবহার করছে। ২০১৯ সালে ইসরাইলি সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রীয়ভাবে এই মরদেহগুলো আটকে রাখার বৈধতাও দিয়েছে।
ফিলিস্তিনি লেখক ও গবেষক আমাল আবু সাইফ এ পরিস্থিতির ট্র্যাজেডি তুলে ধরে বলেছেন যে, মৃত ফিলিস্তিনিদের প্রতি এই অমানবিক আচরণের খবর বিশ্ব মিডিয়ায় খুব সামান্যই জায়গা পায়। যেখানে ইসরাইলি বন্দিদের দাফনের প্রতিটি মুহূর্ত বিশ্বজুড়ে আবেগঘনভাবে প্রচার করা হয়, সেখানে ফিলিস্তিনিদের বিধ্বস্ত কবর এবং ছড়িয়ে থাকা হাড়গোড় নিয়ে বিশ্বের নিরবতা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
আন্তর্জাতিক আইনে সুরক্ষিত এই পবিত্র স্থানগুলোর অবমাননা ফিলিস্তিনিদের স্মৃতি মুছে ফেলা এবং শোকাতুর পরিবারগুলোকে চূড়ান্তভাবে অপমান করার একটি কৌশল হিসেবে দাঁড়িয়েছে।























