ইতালিতে জরুরি অবস্থা জারি
- আপডেট সময় : ০৩:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৬ জন পড়েছেন
ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘হ্যারি’র প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইতালির দক্ষিণাঞ্চল।
বিশেষ করে কালাব্রিয়া, সিসিলি এবং সার্ডিনিয়া অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ইতালি সরকার সেখানে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
সিসিলির নিসেমি শহরে একটি বিশাল ভূমিধসের ঘটনায় এরই মধ্যে অন্তত ১,৫০০ বাসিন্দা তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ইতালির নাগরিক সুরক্ষা মন্ত্রী নেলো মুসুমেসি জানিয়েছেন, ভূমিধসের গতি শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে অগ্রসর হতে থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ‘সেফটি বাফার জোন’ ১০০ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১৫০ মিটার করা হয়েছে। বর্তমানে এই ভূমিধস রেখা প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। নাগরিক সুরক্ষা বিভাগের প্রধান ফ্যাবিও সিসিলিয়ানো সতর্ক করে বলেছেন, ভূমিধস এখনও থামেনি, যার ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে প্রাথমিক সহায়তা, ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং জরুরি পরিষেবা পুনরুদ্ধারের জন্য ইতালি সরকার জাতীয় জরুরি তহবিল থেকে ১০ কোটি ইউরো বরাদ্দ করেছে।
ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসা জানিয়েছে, ভেনেটো, সার্ডিনিয়া এবং কাম্পানিয়াসহ বেশ কিছু এলাকায় এখনও ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি রয়েছে। নিসেমি শহরের মেয়র মাসিমিলিয়ানো কন্টি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘নাটকীয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, রাতারাতি আরও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে এবং শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্কুল ও প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের পাশাপাশি উত্তর ইতালিতেও ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে। আরেনজানো এবং জেনোয়ার মধ্যবর্তী উপকূলীয় সড়কে পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা কুকুর দিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়েছে কি না তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সার্ডিনিয়া কর্তৃপক্ষ আরও ২৪ ঘণ্টার জন্য ঝড়ের সতর্কতা জারি করে ভারি বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের ঝুঁকির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সূত্র: আন্দোলু এজেন্সি।























