ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আনিসুলের ৪ কোটি টাকার ল্যান্ডক্রুজারে চোখ পুলিশের

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেট সময় : ০৭:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৭ জন পড়েছেন

গুলশান থানার প্রবেশ মুখে, রাস্তার ধারে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এক দামি গাড়ি জনসাধারণের নজর কাড়ছে। গাঢ় নীল রঙের এই ব্র্যান্ডনিউ গাড়িটি হলো টয়োটার পাজেরো ল্যান্ডক্রুজার ভিএইট (জেডএক্স) মডেল। দীর্ঘদিন ব্যবহারে না আসায় গাড়িটি ধুলোর আচ্ছাদনে ঢাকা। প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার এই রাজকীয় গাড়িটি এভাবে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন জাগছে, গাড়িটির মালিক কে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাড়িটির মালিক সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের পর হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এ সময় তার ব্যবহৃত গাড়িটিও লুকিয়ে রাখা হয়। কিন্তু তিনি বেশি দিন পালায়ে থাকতে পারেননি। সরকার পতনের আট দিনের মাথায়, ১৩ আগস্ট আনিসুল হক ও হাসিনা সরকারের বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও শিল্পপতি সালমান এফ রহমান, ছদ্মবেশ ধারণ করে নৌপথে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে কোস্ট গার্ডের হাতে ধরা পড়েন দুজনে। রাজধানীর সদরঘাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সাবেক মন্ত্রীর গাড়ি ইউনাইটেড হাসপাতালের বেইজমেন্টে লুকানো ছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। তবে গাড়িটির দরজা লক থাকায় তখন তা সরানো সম্ভব হয়নি। পরে কিছুদিন ইউনাইটেড হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।

গাড়ির মালিকানা যাচাইয়ের জন্য পুলিশ বিআরটিএতে চিঠি দেয়। জবাবে জানা যায়, গাড়িটি ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর আনিসুল হকের নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এর বৈধতা আছে। এমপি কোটায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়িটি আমদানি করা হয়।

২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার চত্বরে গাড়িটি আনা হয়। উদ্ধারকালে গাড়ির ভেতর থেকে দুটি ওয়াকিটকি, ট্যাক্সটোকেন, রেজিস্ট্রেশন ও আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, দুটি ওয়াকিটকি পুলিশ ব্যবহৃত এবং সাবেক মন্ত্রীর গানম্যান হিসেবে নিযুক্ত বিশেষ শাখার কনস্টেবল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর কাছে ইস্যু করা হয়েছিল। পরে আদালতের মাধ্যমে ওয়াকিটকিগুলো তার কাছে ফেরত দেওয়া হয়।

গাড়িটি উদ্ধারের পর পুলিশ আদালতে আবেদন করে বলেন, জব্দকৃত গাড়ি থানার কাজে ব্যবহার করতে পারলে পুলিশের কার্যক্রম দ্রুত হবে এবং গাড়িটিও সচল থাকবে। তবে কোটি টাকার এই গাড়ি পুলিশ বাহিনীতে সাধারণভাবে ব্যবহার করা হয় না। ফলে অনুমোদন পেলেও কোন পর্যায়ের কর্মকর্তার ব্যবহারে তা দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ট্যাগ :

সংবাদটি সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনিসুলের ৪ কোটি টাকার ল্যান্ডক্রুজারে চোখ পুলিশের

আপডেট সময় : ০৭:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

গুলশান থানার প্রবেশ মুখে, রাস্তার ধারে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এক দামি গাড়ি জনসাধারণের নজর কাড়ছে। গাঢ় নীল রঙের এই ব্র্যান্ডনিউ গাড়িটি হলো টয়োটার পাজেরো ল্যান্ডক্রুজার ভিএইট (জেডএক্স) মডেল। দীর্ঘদিন ব্যবহারে না আসায় গাড়িটি ধুলোর আচ্ছাদনে ঢাকা। প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার এই রাজকীয় গাড়িটি এভাবে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন জাগছে, গাড়িটির মালিক কে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাড়িটির মালিক সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের পর হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এ সময় তার ব্যবহৃত গাড়িটিও লুকিয়ে রাখা হয়। কিন্তু তিনি বেশি দিন পালায়ে থাকতে পারেননি। সরকার পতনের আট দিনের মাথায়, ১৩ আগস্ট আনিসুল হক ও হাসিনা সরকারের বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও শিল্পপতি সালমান এফ রহমান, ছদ্মবেশ ধারণ করে নৌপথে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে কোস্ট গার্ডের হাতে ধরা পড়েন দুজনে। রাজধানীর সদরঘাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সাবেক মন্ত্রীর গাড়ি ইউনাইটেড হাসপাতালের বেইজমেন্টে লুকানো ছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। তবে গাড়িটির দরজা লক থাকায় তখন তা সরানো সম্ভব হয়নি। পরে কিছুদিন ইউনাইটেড হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।

গাড়ির মালিকানা যাচাইয়ের জন্য পুলিশ বিআরটিএতে চিঠি দেয়। জবাবে জানা যায়, গাড়িটি ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর আনিসুল হকের নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এর বৈধতা আছে। এমপি কোটায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়িটি আমদানি করা হয়।

২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার চত্বরে গাড়িটি আনা হয়। উদ্ধারকালে গাড়ির ভেতর থেকে দুটি ওয়াকিটকি, ট্যাক্সটোকেন, রেজিস্ট্রেশন ও আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, দুটি ওয়াকিটকি পুলিশ ব্যবহৃত এবং সাবেক মন্ত্রীর গানম্যান হিসেবে নিযুক্ত বিশেষ শাখার কনস্টেবল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর কাছে ইস্যু করা হয়েছিল। পরে আদালতের মাধ্যমে ওয়াকিটকিগুলো তার কাছে ফেরত দেওয়া হয়।

গাড়িটি উদ্ধারের পর পুলিশ আদালতে আবেদন করে বলেন, জব্দকৃত গাড়ি থানার কাজে ব্যবহার করতে পারলে পুলিশের কার্যক্রম দ্রুত হবে এবং গাড়িটিও সচল থাকবে। তবে কোটি টাকার এই গাড়ি পুলিশ বাহিনীতে সাধারণভাবে ব্যবহার করা হয় না। ফলে অনুমোদন পেলেও কোন পর্যায়ের কর্মকর্তার ব্যবহারে তা দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।