বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের পরিপত্র চূড়ান্ত করছে সরকার
- আপডেট সময় : ০৪:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৬ জন পড়েছেন
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুপারিশ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সরকার।
এ লক্ষ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর খসড়া পরিপত্র চূড়ান্তকরণের জন্য আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সভা আহ্বান করা হয়েছে।
গত ১৩ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব হুরে জান্নাত স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ কথা জানানো হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার) নিয়োগ সুপারিশের জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতির চূড়ান্ত পরিপত্রটি অনুমোদনের কথা রয়েছে।
সভার গুরুত্ব বিবেচনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবদের পক্ষে যুগ্মসচিব পদমর্যাদার প্রতিনিধি ছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরদের উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং এনটিআরসিএ’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই নীতিনির্ধারণী সভায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে এনটিআরসিএ-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম সম্পর্কিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গত বুধবার জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যেই নিয়োগ সুপারিশের জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতি সম্পর্কিত পরিপত্রের চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে প্রেরণ করেছে এনটিআরসিএ।
সর্বশেষ গৃহীত ব্যবস্থা বিষয়ে এনটিআরসিএ আরও জানায়, গত বছরের ৬ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার পদে নিয়োগের সুপারিশ করার দায়িত্ব এনটিআরসিএ-কে প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গত ৮ অক্টোবর ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি নিয়োগের একটি সুনির্দিষ্ট পরিপত্র জারির সুপারিশ করেন।
পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে গত ২২ ডিসেম্বর এনটিআরসিএ কার্যালয়ে খসড়া পরিপত্র প্রণয়ন বিষয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ ডিসেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এনটিআরসিএ আরও জানায়, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত করতে গত ৮ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরসমূহ, এনটিআরসিএ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার প্রধানগণের অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব।
ওই কর্মশালার সুপারিশের আলোকেই নিয়োগ পদ্ধতির চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেছে এনটিআরসিএ, যা বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
পরিপত্রটি জারি হলেই দীর্ঘদিনের এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এদিকে গত ১২ জানুয়ারি এসব পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে প্রয়োজনীয় সিলেবাস প্রণয়ন ও হালনাগাদকরণ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি একটি সভা করেছে। ওই সভায় এসব পদের জন্য উপযুক্ত সিলেবাস ও পরীক্ষার ধরন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এনটিআরসিও-এর কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।
























