ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেট সময় : ০৪:০৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১১ জন পড়েছেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আছে ২৮ দিন। সময়ের এই হিসাব বিবেচনায় রেখেই রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে ইতিপূর্বে ঘোষিত ৩১ দফাসহ জনকল্যাণমুখী ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার প্রস্তুত করছে বিএনপি। এখন চলছে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহে দলের স্থায়ী কমিটি নির্বাচনি ইশতেহার চূড়ান্ত করবে, যা পরে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীর উদ্দেশে তুলে ধরা হবে।

এ প্রসঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ইশতেহার তৈরির কাজ প্রায় শেষ দিকে। ২০ জানুয়ারির মধ্যে এটা চূড়ান্ত হবে। আশা করি, শিগগিরই আমরা ইশতেহার ঘোষণা করতে পারব।

নতুন ভাবনার মধ্যে ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে বিবেচনায় রেখে অগ্রসর হচ্ছে দলটি। দেশ গড়ার পরিকল্পনায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় নেতাদের জীবনমান উন্নয়নকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক নানা বক্তব্যের মূল বিষয়গুলোও ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে। আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ নির্বাচনি ইশতেহারে যোগ হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের আদলে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ তৈরির পরিকল্পনা ও বিএনপি নির্বাচিত হলে ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসাবে রাখছে দলটি। প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ ও নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শুরুর দু-একদিন আগে-পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করবে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম ও ইশতেহার প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এমন তথ্য জানিয়েছেন।

জানা যায়, এবারের ইশতেহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা, ‘ভিশন ২০৩০’, জুলাই জাতীয় সনদ, গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ৮টি বিশেষ খাতের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ৩১ দফার মূল বিষয়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বাকস্বাধীনতা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারসহ কয়েকটি প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা দেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টিও স্থান পাবে ইশতেহারে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা পৌনে ১৩ কোটি। এর মধ্যে একেবারে নতুন ভোটার আছে কমবেশি এক কোটি। এই বিশালসংখ্যক ভোটার এবারই প্রথম ভোট দেবেন। ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সি ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটি।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এবার তরুণ ভোটাররা হয়তো নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। গত তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে দেশের বেশির ভাগ মানুষ ভোট দিতে পারেনি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে তরুণ সমাজের মধ্যে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ-উদ্দীপনা অনেক বেশি। ফলে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি; যা দলটির নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি হিসাবে উল্লেখ থাকবে। ৬০ বছরের বেশি বয়সি ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৯৩ লাখের অধিক। তাদের জীবনযাত্রার বিষয়টি নজরে রেখে ইশতেহার প্রস্তুত করা হচ্ছে। দেশে নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটির বেশি। এমন অবস্থায় নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিও মাথায় রাখছে দলটি। সম্প্রতি সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। এই কমিটিসহ ইশতেহার তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আরও পরিবর্তন, সংযোজন-বিয়োজন করবে। চলতি সপ্তাহে ইশতেহারের খসড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে। এ কমিটির বৈঠকে দলের ইশতেহার চূড়ান্ত করা হবে।

এদিকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানি ভাতাসহ জনকল্যাণমুখী এই ৮টি খাতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বিএনপির ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি পরিবারে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নামে ফ্যামিলি কার্ড চালু করবে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে সার, উন্নত বীজ ও কৃষিপ্রযুক্তি পাবেন কৃষকরা। প্রত্যেক মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াসহ শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়টি উল্লেখ থাকবে ইশতেহারে। গুরুত্ব দেওয়া হবে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে তরুণদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে। পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিল্প ও কর্মক্ষেত্রের বাস্তব যোগসূত্র তৈরি করাই দলটির মূল লক্ষ্য হিসাবে গুরুত্ব পাবে।

ক্রীড়াকেও পেশা হিসাবে গ্রহণযোগ্য করতে বিএনপি সব স্তরে খেলাধুলার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবে। নবায়নযোগ্য শক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিং বাড়িয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা অগ্রাধিকার পাবে। কর্মসংস্থানে এসএমই, বস্ত্র ইকোনমি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আইসিটি খাতে ব্যাপক নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, ই-কমার্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, গেমিং ও স্টার্টআপ খাতকে কর্মসংস্থানের প্রধান উৎসে পরিণত করবে। বিদেশি শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ খুঁজে বের করে এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে আরও বেশি তরুণকে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্টে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের পুরোহিত, পাদরিসহ ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তাদের জীবনমান উন্নয়নসহ আর্থিক সুবিধা ও সহায়তা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত থাকে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান যুগান্তরকে বলেন, বিএনপির ইশতেহারে ৩১ দফা এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে শিগ্গিরই ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। সোমবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইশতেহারে শ্রমিকদের যে দাবি ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা পাব বলে প্রত্যাশা করছি।

আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচিত হলে প্রথম ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের কথা জানিয়েছে দলটি। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এটিকে তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের আদলে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। ক্ষমতায় গেলে বড় বড় মেগা প্রকল্প করা নয়, কর্মক্ষম লোকদের পূর্ণাঙ্গ সুযোগ তৈরি করা হবে।

সোমবার বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল যুগান্তরকে বলেন, মূলত বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা ও সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’-এর আলোকেই নির্বাচনি ইশতেহার তৈরি করা হচ্ছে। এর কাজ এখনো চলছে। ইশতেহারে নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগ :

সংবাদটি সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’

আপডেট সময় : ০৪:০৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আছে ২৮ দিন। সময়ের এই হিসাব বিবেচনায় রেখেই রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে ইতিপূর্বে ঘোষিত ৩১ দফাসহ জনকল্যাণমুখী ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার প্রস্তুত করছে বিএনপি। এখন চলছে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহে দলের স্থায়ী কমিটি নির্বাচনি ইশতেহার চূড়ান্ত করবে, যা পরে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীর উদ্দেশে তুলে ধরা হবে।

এ প্রসঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ইশতেহার তৈরির কাজ প্রায় শেষ দিকে। ২০ জানুয়ারির মধ্যে এটা চূড়ান্ত হবে। আশা করি, শিগগিরই আমরা ইশতেহার ঘোষণা করতে পারব।

নতুন ভাবনার মধ্যে ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে বিবেচনায় রেখে অগ্রসর হচ্ছে দলটি। দেশ গড়ার পরিকল্পনায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় নেতাদের জীবনমান উন্নয়নকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক নানা বক্তব্যের মূল বিষয়গুলোও ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে। আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ নির্বাচনি ইশতেহারে যোগ হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের আদলে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ তৈরির পরিকল্পনা ও বিএনপি নির্বাচিত হলে ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসাবে রাখছে দলটি। প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ ও নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শুরুর দু-একদিন আগে-পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করবে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম ও ইশতেহার প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এমন তথ্য জানিয়েছেন।

জানা যায়, এবারের ইশতেহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা, ‘ভিশন ২০৩০’, জুলাই জাতীয় সনদ, গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ৮টি বিশেষ খাতের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ৩১ দফার মূল বিষয়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বাকস্বাধীনতা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারসহ কয়েকটি প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা দেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টিও স্থান পাবে ইশতেহারে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা পৌনে ১৩ কোটি। এর মধ্যে একেবারে নতুন ভোটার আছে কমবেশি এক কোটি। এই বিশালসংখ্যক ভোটার এবারই প্রথম ভোট দেবেন। ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সি ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটি।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এবার তরুণ ভোটাররা হয়তো নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। গত তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে দেশের বেশির ভাগ মানুষ ভোট দিতে পারেনি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে তরুণ সমাজের মধ্যে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ-উদ্দীপনা অনেক বেশি। ফলে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি; যা দলটির নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি হিসাবে উল্লেখ থাকবে। ৬০ বছরের বেশি বয়সি ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৯৩ লাখের অধিক। তাদের জীবনযাত্রার বিষয়টি নজরে রেখে ইশতেহার প্রস্তুত করা হচ্ছে। দেশে নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটির বেশি। এমন অবস্থায় নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিও মাথায় রাখছে দলটি। সম্প্রতি সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। এই কমিটিসহ ইশতেহার তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আরও পরিবর্তন, সংযোজন-বিয়োজন করবে। চলতি সপ্তাহে ইশতেহারের খসড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে। এ কমিটির বৈঠকে দলের ইশতেহার চূড়ান্ত করা হবে।

এদিকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানি ভাতাসহ জনকল্যাণমুখী এই ৮টি খাতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বিএনপির ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি পরিবারে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নামে ফ্যামিলি কার্ড চালু করবে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে সার, উন্নত বীজ ও কৃষিপ্রযুক্তি পাবেন কৃষকরা। প্রত্যেক মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াসহ শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়টি উল্লেখ থাকবে ইশতেহারে। গুরুত্ব দেওয়া হবে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে তরুণদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে। পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিল্প ও কর্মক্ষেত্রের বাস্তব যোগসূত্র তৈরি করাই দলটির মূল লক্ষ্য হিসাবে গুরুত্ব পাবে।

ক্রীড়াকেও পেশা হিসাবে গ্রহণযোগ্য করতে বিএনপি সব স্তরে খেলাধুলার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবে। নবায়নযোগ্য শক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিং বাড়িয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা অগ্রাধিকার পাবে। কর্মসংস্থানে এসএমই, বস্ত্র ইকোনমি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আইসিটি খাতে ব্যাপক নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, ই-কমার্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, গেমিং ও স্টার্টআপ খাতকে কর্মসংস্থানের প্রধান উৎসে পরিণত করবে। বিদেশি শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ খুঁজে বের করে এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে আরও বেশি তরুণকে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্টে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের পুরোহিত, পাদরিসহ ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তাদের জীবনমান উন্নয়নসহ আর্থিক সুবিধা ও সহায়তা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত থাকে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান যুগান্তরকে বলেন, বিএনপির ইশতেহারে ৩১ দফা এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে শিগ্গিরই ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। সোমবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইশতেহারে শ্রমিকদের যে দাবি ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা পাব বলে প্রত্যাশা করছি।

আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচিত হলে প্রথম ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের কথা জানিয়েছে দলটি। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এটিকে তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের আদলে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। ক্ষমতায় গেলে বড় বড় মেগা প্রকল্প করা নয়, কর্মক্ষম লোকদের পূর্ণাঙ্গ সুযোগ তৈরি করা হবে।

সোমবার বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল যুগান্তরকে বলেন, মূলত বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা ও সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’-এর আলোকেই নির্বাচনি ইশতেহার তৈরি করা হচ্ছে। এর কাজ এখনো চলছে। ইশতেহারে নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।