
সোজাসাপ্টা রিপোর্ট: বগুড়ায় বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার, বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি বাড়ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকায় পরিবেশ শান্ত রয়েছে।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনে তারেক রহমানের প্রতিনিধি রেজাউল করিম বাদশা শহরের হাসনা জাহান (ভান্ডারী) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। একই সময় এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী, শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান সোহেল শহরের সেউজগাড়ী জামতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে ভোট দেন। এ ছাড়া অন্যান্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার কেন্দ্রে শুরুতেই ভোট দিয়েছেন।
বগুড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, নারীদের মোটামুটি দীর্ঘ লাইন। পুরুষ ভোটারদের লাইন তেমন নেই। প্রশাসনের সুব্যবস্থাপনায় সবাই ভোট দিচ্ছেন।
কথা হয় ষাটোর্ধ্ব মজিরন বিবির সঙ্গে। ভোট দিয়ে কেমন লাগছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অনেক দিন পর ভোট দিতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। এবারে কেন্দ্রে আসতে কোনো ভয় লাগেনি। প্রার্থীদের দেওয়া রিকশায় সুলতানগঞ্জপাড়ার বাড়ি থেকে কেন্দ্রে এসেছেন। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা মেহেদী হাসান জানান, অনেক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। নারীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। তবে বেলা বাড়লে ভোটার সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে।
শহরের হাসনা জাহান (ভান্ডারি) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্রে ভোটদানের পর প্রতিক্রিয়ায় জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, ভোটের অধিকার ফিরে পেতে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়েছে। অনেকে গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। এরপর ১৭ বছর পর আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা ভোটাধিকার ফেরত পেয়েছি। ভোট ফেরত দেওয়ায় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। জনগণ যেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, কিছু কেন্দ্রে একটি গোষ্ঠীর কিছু অনিয়ম দেখেছি, যা কখনও কাম্য নয়। রেজাউল করিম বাদশা আশা করেন, ভোটে কোনো অনিয়ম হবে না। আমরা অতীতে সদর আসনে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দুই লক্ষাধিক ভোটে বিজয়ী করেছি। এবার চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অনেক বেশি ভোটে নির্বাচিত করব, ইনশাআল্লাহ।
শহরের সেউজগাড়ী জামতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে ভোট দিয়ে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন পর ভোটারদের মধ্যে ভোটের আমেজ তৈরি হয়েছে। যেকোনো মূল্যে এই আমেজ ধরে রাখতে হবে। টেকসই গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাই মিলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভোট প্রদান শুরু হওয়ার পর এখনো পরিবেশ মোটামুটি ভালো। তবে রাতে অনেক জায়গায় প্রতিপক্ষের লোকজন ঝামেলা করেছে। জামায়াতের এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে ভোটারদের কেন্দ্রে এসে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে সবাইকে শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৬৭২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা পুরুষ ভোটারের চেয়ে ২০ হাজারের বেশি, যা বগুড়ার নির্বাচনি ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৪২ জন, নারী ভোটার ১৫ লাখ ৭৮৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪২ জন। জেলার সাতটি আসনে মোট ৯৮৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল।
নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বগুড়া জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় এক হাজার ৩০০ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, ২৪ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), দুই হাজার ২৯৪ পুলিশ সদস্য এবং ৪৭ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক আনসার ও ভিডিপি সদস্য ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।