ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তোলারাম কলেজে বিকেএমইএ’র সভাপতি হাতেমের সঙ্গে ছাত্রদলের বেয়াদপি

সোজাসাপটা রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৬৮ জন পড়েছেন

তোলারাম কলেজে বিকেএমইএ’র সভাপতি হাতেমের সঙ্গে ছাত্রদলের উচ্ছৃঙ্খল নেতাদের বেয়াদপি নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী সমাজ। এ ধরনের আচরনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রপ্তানীমুখী গার্মেন্ট শিল্পের একাধিক মালিক। তারা বলছেন, নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদলের নেতারা চাঁদাবাজির পাশাপাশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিকেএমইএ সভাপতি হাতেম এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। এসময় তারা আপত্তিকর শ্লোগান দিতে থাকে। এ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় তাতে দেখা যায়, সরকারি তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়ার নেতৃত্বে  কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আশিকুজ্জামান অনু, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইমাম হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষার্থী তুহিন আহমেদ, সজিব দাস, অলক কান্তি দাস প্রমুখ হাতেমের সঙ্গে বেয়াদপি করছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে পৌনে একটায় কলেজ মিলনায়তনে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের (আইবিডব্লিউএফ) এক উদ্যোক্তা সম্মেলন চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।

সামিট আয়োজিত অনুষ্ঠানের শেষ দিকে হঠাৎ করে তোলারাম কলেজের একদল ছাত্রদল নেতা- কর্মী সভাস্থলে প্রবেশ করে হৈচৈ শুরু করে। উপস্থিত অতিথিদের সামনে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে উদ্দেশ্য করে তারা নানা কটূক্তি ও অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলে। এসময় ছাত্রদল সভাপতি মনির হোসেন জিয়া হাতেমকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে আখ্যা দেন এবং সভা ত্যাগেরও নির্দেশ দেন। আচমকা এই বিশৃঙ্খলায় উপস্থিত উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা হতভম্ব হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় সরকারি তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ অডিটোরিয়াম হলে, যেখানে অনার্স ও মাস্টার্স শ্রেণির শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি ছিলেন আইবিডব্লিউএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরকারি তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক বিমল চন্দ্র সাহা, নারায়ণগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফজলুল হক (রুমন রেজা), হাজী মিসির আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ আলমাস আলী খান, বিকেএমইএ পরিচালক ও ভিটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার সাঈদ, আইবিডব্লিউএফ ঢাকা সাউথ জোনের সেক্রেটারি ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক গোলাম সারোয়ার সাঈদ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস বাইং হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সভাপতি আক্তার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জোন কো-অর্ডিনেটর মাহিন, চায়না জোন চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, জেলা দোকান মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন, ডাইস কেমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন প্রমুখ।
ছাত্রদলের এই বিশৃঙ্খল ঘটনার সময় সভাপতির সঙ্গে ছিলেন তোলারাম কলেজের ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি ইমাম হোসেন, সাবেক সভাপতি আশিকুর জামান অনু, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আরও ১৫-২০ জন নেতা-কর্মী। তারা অনুষ্ঠানে উঠে চিৎকার করতে থাকে এবং বিকেএমইএ সভাপতির উদ্দেশ্যে নানা উসকানিমূলক মন্তব্য করে পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, “অনুষ্ঠান প্রায় শেষের দিকে হঠাৎ কয়েকজন যুবক এসে বলতে থাকে, এখানে কোনো ফ্যাসিবাদের দোসর থাকতে পারবে না। আমি প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারিনি, কিন্তু এক পর্যায়ে একজন নিজেকে তোলারাম কলেজ ছাত্রদল সভাপতি পরিচয় দিয়ে আমাকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলে, আপনি এখান থেকে চলে যান। আমি তখন তাঁর কথায় অবাক হয়ে যাই।”
তিনি আরও বলেন, “কলেজের ছাত্রদলের ছেলেরা হয়তো আমাকে ভালোভাবে চেনে না। তাদেরকে কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উসকানি দিয়েছে আমাকে হেয় করার জন্য পাঠিয়েছে। আমি যদি ফ্যাসিবাদের দোসর হতাম, তাহলে আমি ফ্যাসিবাদের আমলেই বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট থাকতাম, সেলিম ওসমান প্রেসিডেন্ট হতেন না।”
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, “একজন শিক্ষিত তরুণ রাজনৈতিক পরিচয়ে এসে যদি উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক অনুষ্ঠানে এমন আচরণ করে, তাহলে তা শুধু আমার নয়, পুরো শিক্ষাঙ্গনের জন্য লজ্জাজনক। এই ধরনের ছাত্র রাজনীতি তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।”
উল্লেখ্য, “এন্টারপ্রিনিউর সামিট ২০২৫” অনুষ্ঠানে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের এমন আচরণে অনুষ্ঠানটি অকালেই বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়।

সংবাদটি সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তোলারাম কলেজে বিকেএমইএ’র সভাপতি হাতেমের সঙ্গে ছাত্রদলের বেয়াদপি

আপডেট সময় : ১০:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

তোলারাম কলেজে বিকেএমইএ’র সভাপতি হাতেমের সঙ্গে ছাত্রদলের উচ্ছৃঙ্খল নেতাদের বেয়াদপি নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী সমাজ। এ ধরনের আচরনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রপ্তানীমুখী গার্মেন্ট শিল্পের একাধিক মালিক। তারা বলছেন, নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদলের নেতারা চাঁদাবাজির পাশাপাশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিকেএমইএ সভাপতি হাতেম এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। এসময় তারা আপত্তিকর শ্লোগান দিতে থাকে। এ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় তাতে দেখা যায়, সরকারি তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়ার নেতৃত্বে  কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আশিকুজ্জামান অনু, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইমাম হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষার্থী তুহিন আহমেদ, সজিব দাস, অলক কান্তি দাস প্রমুখ হাতেমের সঙ্গে বেয়াদপি করছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে পৌনে একটায় কলেজ মিলনায়তনে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের (আইবিডব্লিউএফ) এক উদ্যোক্তা সম্মেলন চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।

সামিট আয়োজিত অনুষ্ঠানের শেষ দিকে হঠাৎ করে তোলারাম কলেজের একদল ছাত্রদল নেতা- কর্মী সভাস্থলে প্রবেশ করে হৈচৈ শুরু করে। উপস্থিত অতিথিদের সামনে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে উদ্দেশ্য করে তারা নানা কটূক্তি ও অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলে। এসময় ছাত্রদল সভাপতি মনির হোসেন জিয়া হাতেমকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে আখ্যা দেন এবং সভা ত্যাগেরও নির্দেশ দেন। আচমকা এই বিশৃঙ্খলায় উপস্থিত উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা হতভম্ব হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় সরকারি তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ অডিটোরিয়াম হলে, যেখানে অনার্স ও মাস্টার্স শ্রেণির শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি ছিলেন আইবিডব্লিউএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরকারি তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক বিমল চন্দ্র সাহা, নারায়ণগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফজলুল হক (রুমন রেজা), হাজী মিসির আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ আলমাস আলী খান, বিকেএমইএ পরিচালক ও ভিটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার সাঈদ, আইবিডব্লিউএফ ঢাকা সাউথ জোনের সেক্রেটারি ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক গোলাম সারোয়ার সাঈদ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস বাইং হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সভাপতি আক্তার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জোন কো-অর্ডিনেটর মাহিন, চায়না জোন চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, জেলা দোকান মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন, ডাইস কেমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন প্রমুখ।
ছাত্রদলের এই বিশৃঙ্খল ঘটনার সময় সভাপতির সঙ্গে ছিলেন তোলারাম কলেজের ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি ইমাম হোসেন, সাবেক সভাপতি আশিকুর জামান অনু, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আরও ১৫-২০ জন নেতা-কর্মী। তারা অনুষ্ঠানে উঠে চিৎকার করতে থাকে এবং বিকেএমইএ সভাপতির উদ্দেশ্যে নানা উসকানিমূলক মন্তব্য করে পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, “অনুষ্ঠান প্রায় শেষের দিকে হঠাৎ কয়েকজন যুবক এসে বলতে থাকে, এখানে কোনো ফ্যাসিবাদের দোসর থাকতে পারবে না। আমি প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারিনি, কিন্তু এক পর্যায়ে একজন নিজেকে তোলারাম কলেজ ছাত্রদল সভাপতি পরিচয় দিয়ে আমাকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলে, আপনি এখান থেকে চলে যান। আমি তখন তাঁর কথায় অবাক হয়ে যাই।”
তিনি আরও বলেন, “কলেজের ছাত্রদলের ছেলেরা হয়তো আমাকে ভালোভাবে চেনে না। তাদেরকে কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উসকানি দিয়েছে আমাকে হেয় করার জন্য পাঠিয়েছে। আমি যদি ফ্যাসিবাদের দোসর হতাম, তাহলে আমি ফ্যাসিবাদের আমলেই বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট থাকতাম, সেলিম ওসমান প্রেসিডেন্ট হতেন না।”
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, “একজন শিক্ষিত তরুণ রাজনৈতিক পরিচয়ে এসে যদি উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক অনুষ্ঠানে এমন আচরণ করে, তাহলে তা শুধু আমার নয়, পুরো শিক্ষাঙ্গনের জন্য লজ্জাজনক। এই ধরনের ছাত্র রাজনীতি তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।”
উল্লেখ্য, “এন্টারপ্রিনিউর সামিট ২০২৫” অনুষ্ঠানে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের এমন আচরণে অনুষ্ঠানটি অকালেই বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়।